নেই বাঁম হাত, এক হাতেই সেলাই মেশিনে মাস্ক বানিয়ে বিলি করছে ছাত্রী, ভাইরাল ভিডিও

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে আমরা পরিচিত হচ্ছি নিত্য নতুন অনেক বিষয়ের সাথে। অনেক অজানা ঘটনা আমাদের সম্মুখে উপস্থাপিত হচ্ছে। বর্তমান যুগে একঘেয়ে জীবনে অবসর যাপনের অন্যতম মাধ্যম হল এই সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে থাকেন। নিত্য নতুন কত‌ই না অজানা প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে এই সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে।

অনেকেই এই প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছে তাঁদের সুপ্ত প্রতিভাকে সকলের সামনে মেলে ধরার জন্য। কাউকে দেখা যায় গান করতে, কাউকে নাচ আবার কেউ কেউ সুমধুর কন্ঠে আবৃত্তি শুনিয়ে থাকেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবার অনেকে নানান কসরৎ দেখিয়ে অভিভূত করে দেন নেটিজেনদের। সেইসব ভিডিও বা ফটো গুলো মূহুর্তের মধ্যে নেটিজেনদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নেয়।

আবার অনেকে তাদের দৃঢ় মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে এমন অসাধ্য সাধন করেন যা দেখে মানুষের মনের মধ্যে এক আলাদা অনুভূতির সঞ্চার ঘটে। এবার ঠিক এরকমই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জীবনে এগিয়ে চলার পথে প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। যদি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস থাকে তাহলে খুব সহজেই অজেয়কে জয় করা সম্ভবপর হয়। এই রকমই একটি অসাধ্য সাধন করে রেখেছে এক প্রতিবন্ধী কিশোরী।

ওই প্রতিবন্ধী কিশোরী নিজে মাস্ক বানাচ্ছে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বিলি করবে বলে। এখনো পর্যন্ত সে এক লক্ষ মাস্ক তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কিশোরীর বাম হাত কোনো কারণবশত ছোটবেলা থেকেই পরিপুষ্ট নয়। কনুইয়ের কাছ থেকেই বেরিয়েছে ছোটো ছোটো আঙুল। তবুও একটি মাত্র সচল হাত দিয়ে সেলাই মেশিনে বসে সেই তৈরি করে চলেছে মাস্ক। করোনার এই ভয়াবহ আবহে দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সেও মানুষের উপকারে আসতে চায়।

এইটুকু বয়সেই প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে সে তৈরি করে চলেছে মাস্ক। কর্নাটকের উডুপির বাসিন্দা এই কিশোরীর নাম সিন্ধুরী। ক্লাস টেনের পরীক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করছে সে। তার এই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সমস্ত নেটিজেনরা। এই ভিডিওটিকে দেখে সকলেই ওই কিশোরীকে ধন্য ধন্য করেছেন। নিজের প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে দেশের জনগণের প্রতি তার যে মমত্ববোধ তা সকলেরই প্রশংসার যোগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button