ব্যাপক খাদ্য সংকটে উত্তর কোরিয়া, পোষ্য কুকুর মে’রে রেস্তোরায় করা হচ্ছে বিক্রি!

কিং জং উন। উত্তর কোরিয়ার এই স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়ক বরাবরই তার খামখেয়ালি স্বভাব এবং স্বৈরাচারের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে দেশে টুঁ শব্দটি করার মত কাউকে দেখা যায় না। তার যে কোনো সিদ্ধান্তের প্র’তি-বাদ করলেই দাঁড়াতে হয় ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে। এহেন স্বৈরাচারী নায়কের এক নতুন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অত্যন্ত ক্ষু-ব্ধ হয়ে রয়েছেন দেশবাসী কিন্তু প্রতি-বাদের ভাষা তারা যে জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন সেই সাহস টুকু হারিয়েছেন তারা।

কারণ জীবন যে বড়ই দায়। আগে নিজের জীবনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে। সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ক্রমশ নিম্নগামী হয়েছে। পরপর বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দু-র্যো-গে-র শি-কা-র হয়েছে উত্তর কোরিয়া যার ফলে মা-রা-ত্ম-ক ক্ষ-তিগ্রস্ত হয়েছে তার কৃষি। উত্তর কোরিয়া এই চলতি মাসেই ব-ন্যার ক-ব-লে পড়েছে। যার দরুন খাদ্যশস্যের ভয়া-বহ ক্ষ-য়-ক্ষ-তি হয়েছে।

জানা গিয়েছে বন্যায় ক্ষ-তি হয়ে গেছে প্রায় 10 লাখ একর জমির ফসল। 17 হাজার ঘর বাড়ি ধ্বং-স হয়ে গিয়েছে। এই নিরিখে উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক কিম জং উন নির্দেশ দিয়েছেন, “উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে গরু এবং শুকুরের মাংস খাওয়ার চিন্তা ধারা হল বিলাসিতার লক্ষণ, তাই আগামী দিনগুলিতে খিদে মেটানোর উদ্দেশ্যে পোষা কুকুরের মাংস খেতে হবে সাধারণ মানুষকে।”

এমনিতেই চীন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানুষের পাতে কুকুরের মাংসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি সেখানে অনেক রেস্তোরাঁতেও কুকুরের মাংস পরিবেশন করা হয়। কিং জং উন নির্দেশ দিয়েছেন বাড়ির পোষ্য কুকুরকে আর বাড়িতে রাখা যাবে না তা খাদ্য সং-কট মেটাতে তুলে দিতে হবে সরকারের হাতে। এর ফলে বিজয় ক্ষুব্ধ এবং হতাশ হয়েছেন কুকুরের মালিকরা। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলিও নিন্দায় সরব হয়েছে।

জানা গিয়েছে উত্তর কোরিয়া কর্তৃপক্ষ পোষা কুকুর থাকা বাড়িগুলোকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে ফেলেছে এবং সেখান থেকে পোষ্য কুকুরদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কুকুরকে চিড়িয়াখানায় রাখা হচ্ছে এবং বাকি কুকুরগুলোকে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে কুকুরের মাংস বিক্রির রেস্তোরাঁগুলিতে।

স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনায়কের এই সিদ্ধান্তের দরুন অনেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন কিন্তু প্রতি-বাদের ভাষা হারিয়েছেন তাঁরা। কিং জং উন নির্দেশ দিয়েছেন, বাড়িতে কুকুর পালন করা এখন আইনবিরোধী বিষয়। কুকুর পোষা হলেও বুর্জোয়া আদর্শের কলংকিত পন্থা।কিন্তু যে পোষ্যটি বাড়িতে বহুদিন ধরে আদরে যত্নে লালিত পালিত হয়ে আসছে বাড়ির সদস্যের মতই তাকে খাবারের টেবিলে পরিবেশিত হতে দেখা, মেনে নেওয়াটা সত্যিই কষ্টকর বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button