২ কেজি সুপারি দিয়ে ১০ ইঞ্চির দূর্গা মূর্তি তৈরী করে নজির গড়লেন কৃষ্ণগঞ্জের গৃহবধূ!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-আমরা মণ্ডপে বিভিন্ন ধরনের দুর্গা প্রতিমা দেখে থাকি । বলা বাহুল্য প্রতিটা মন্ডপই নিত্য নতুন কিছু করে বাকি সবার থেকে একটু হলেও বেশি নজর কাড়তে চাই । তাই বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তৈরি করার চেষ্টা চলে দুর্গা প্রতিমার । কিন্তু শুধুমাত্র সুপুরি দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে রীতিমত অবাক করে দিলেন কৃষ্ণগঞ্জ এর পাপিয়া পাল নামে এক গৃহবধূ । তার এই সুপুড়ি দিয়ে তৈরি করা দুর্গা রীতিমতো অবাক করেছে নেটদুনিয়ায় নেটিজেনদের । তার সাথে সাথে সৃষ্টি করেছে বড় আকারের এক কৌতুহল।

আমাদের আশেপাশে এমন কিছু জিনিস থাকে যা আমরা সহজে গ্রাহ্য করি না বা ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করি না । কিন্তু প্রকৃতি নিজেকে সাজিয়ে তোলার জন্য আমাদের আশেপাশে এহেন প্রচুর জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছে। শুধুমাত্র চোখ মেলে দেখার অপেক্ষায়। আর নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগাবার অপেক্ষায় । ঠিক সেরকমই কিছু একটা করেছেন কৃষ্ণগঞ্জ ওই গৃহবধূ । স্বামী সবজি বিক্রেতা ।ছেলে দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ে ।

লক্ষ্য একটাই পূজোতে আমাদের আশেপাশে যেসব অনাথ শিশুরা ঘোরাফেরা করে তাদেরকে সাহায্য করা । কিন্তু নতুন জামা কাপড় বা অন্য কিছু কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য পাপিয়ার নেই । তাই নিজের হাতের কাজ কর্ম দিয়ে তৈরি করে ফেলেছেন এই দুর্গা প্রতিমা । এটা বিক্রি করে যে টাকা আসবে তা দিয়ে দুঃস্থ বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনে দেবেন সামনে পুজোতে।

প্রায় দুই কেজি সুপারি দিয়ে তৈরি হয়েছে দুর্গা প্রতিমা টি । ৭ ইঞ্চি তৈরি হয়েছে লক্ষ্মী ১০ ইঞ্চি দুর্গা এবং ৪ ইঞ্চি গণেশ কার্তিক। এ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাপিয়া বলেছেন যে কোনো দিনই তেমন করে শেখার কোনো সুযোগ হয়নি ।গ্রামের পালবাড়ি তে বসে অপটু হাতে যতটুকু করা। ভুল হয়েছে ভেঙেছে বারবার তবে আবার নিজের মনকে সান্ত্বনা দিয়েছি শুধুমাত্র বাচ্চাগুলি মুখের দিকে চেয়ে থেকে।

ওদের ভালোবাসা আমাকে কখন যে শিল্পী বানিয়েছে নিজেই বুঝতে পারিনি । প্রতি বছরই তিনি কিছু না কিছু দিয়ে দুর্গা প্রতিমা করে থাকেন কখনো মাটিতে কখনো পিজবোর্ড কিন্তু এবারের দূর্গা প্রতিমা বাকি সবার থেকে একটু আলাদা যা রীতিমতো নজর কেড়েছে ।

এর পাশাপাশি পাপিয়া কর সমাজে এক আলাদা বার্তা দিয়েছেন। তিনি সমাজের মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার এক অভিনব বার্তা দিয়েছেন এই কাজের মাধ্যমে । এই কাজ করার পর তিনি এসব বর্ণনা করতে গিয়ে তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উক্তি, যা সব সময় অনুপ্রাণিত করে পাপিয়াকে

“দেখিতে গিয়েছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু”।

https://www.facebook.com/papiya.kar.3990/posts/705565116969755

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button