আপনার ঘুম যদি রাত 3টে থেকে ভোর 5 টার মধ্যেই ভেঙে যায়, তাহলে বুঝবেন ভগবান আপনাকে এই সংকেত দিচ্ছেন!

আজ আমরা এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যা শুনলে আপনি অনেকটা সমৃদ্ধ হয়ে উঠবেন। আজকে আমাদের প্রতিবেদনের আলোচ্য বিষয়টি হচ্ছে রাত 3টে 35 মিনিটের রহস্য। আজ আমরা এই রহস্য উন্মোচন করতে চলেছি। তবে বিস্তারিত জানতে অবশ্যই পড়ুন আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত। শাস্ত্রে উল্লিখিত রয়েছে যে, কোন ব্যক্তির ঘুম যদি রাত 3:45 থেকে ভোর 5টার মধ্যে ভেঙে যায় তাহলে এটি কোনো না কোনো দিব্য সংকেত প্রদান করে আমাদের। আর রাত 3:45 মিনিট হচ্ছে এই শুভক্ষণের সন্ধিক্ষণ ।

এই সময়কালে কি করা উচিত এবং এবং কি করা উচিত নয় তাঁর বিস্তারিত ব্যাখ্যা শাস্ত্রে উল্লিখিত রয়েছে। এটি আজ আমরা আজকের প্রতিবেদনটিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো তাহলে চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক এই ব্যাপারে। অনেক সময় লক্ষ্য করবেন রাত্রে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ আমাদের নিদ্রা ভঙ্গ হয়ে যায়। অনেকে এটিকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেন এবং পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন কিন্তু বাস্তবে যদি আপনার নিদ্রা হঠাৎ করে এভাবে ভঙ্গ হয়ে যায় তাহলে এটি কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয়, কেননা এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে রহস্য।

এই ঘটনা আমাদের কিছু-না-কিছু সংকেত প্রদান করে। আমরা এ বিষয়ে সকলেই জানি যে কোন কারণ ছাড়া কোন কিছু ঘটেনা। সকল কাজের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো না কোনো কারণ।এমনকি শাস্ত্রে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে আমরা নিদ্রার মধ্যে যে স্বপ্ন দেখি সেই স্বপ্নের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো না কোনো কারণ। শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে সূর্য ওঠার আগের 45 মিনিট সময়টিকে ব্রহ্ম মুহূর্ত বলা হয়।

অর্থাৎ ব্রহ্ম মুহূর্ত হচ্ছে রাত 3:45 থেকে ভোর 5টার মধ্যে একটি বিশেষ সময়। এ সময় প্রকৃতিতে বিশাল এক পরিবর্তন ঘটে যা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।এই বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে যে এটি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময় যেখানে কোনো ব্যক্তি তার কৃত সমস্ত পাপ কর্ম থেকে মুক্তি পেতে পারেন অতিসহজে। আর এই সময় মানুষের করা প্রার্থনা সবথেকে বেশি ফলপ্রদ হয়ে থাকে।

স্বয়ং ভগবান বলেছেন যে তাঁকে স্মরণ করা ,তাঁর ক্ষমা করা ,দয়া ও প্রার্থনা করার শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হচ্ছে এই ব্রহ্ম মুহূর্ত। ব্রহ্মমুহুর্ত সময়টিতে প্রকৃতি খুব শান্ত থাকে এবং পবিত্র থাকে। তাহলে এই সময় কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠলে সকল পাপ থেকে মুক্তি লাভ করে এবং মস্তিষ্ক শক্তি বৃদ্ধি করে উন্নত হয়ে ওঠে। শাস্ত্রে উল্লিখিত রয়েছে যে এই সময় মানুষ ঈশ্বরের সাথে সব থেকে বেশি সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।

ফলে এই বিশেষ মুহূর্তে মানুষ যে ইচ্ছা নিয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করেন সেই ইচ্ছা পূরণ হয় অতিসহজে। তাই এই সময় নিদ্রাভঙ্গ হলে পুনরায় না ঘুমিয়ে গিয়ে কিছু সময় ধরে ভগবানের স্মরণ করুন। গায়ত্রী মন্ত্র ,সূর্য মন্ত্র বা আপনার দীক্ষা মন্ত্র জপ করুন। আপনি যে মনস্কামনা নিয়ে এই সময় ভগবানের কাছে প্রার্থনা করবেন সেই মনস্কামনা পূরণ হবে এবং আপনি আপনার সমস্ত দুঃখ কষ্ট থেকে অতি সহজেই নিবৃত্তি লাভ করতে পারবেন।

পাশাপাশি শাস্ত্রে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে যে এই বিশেষ সময়টিতে সাধু-সন্ন্যাসীরা জগতের কল্যাণের জন্য জপ করে থাকেন এবং নিজেদের জপের ফল প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেন।তাই এই সময় উঠে যদি আমরা ঈশ্বরের আরাধনা করি, মন থেকে ঈশ্বরের জপ করি তাহলে সাধু সন্ন্যাসীদের জপের ফল আমরা লাভ করতে পারি এবং আমাদের জীবন সুখ ও শান্তিতে ভরে ওঠে। যে সকল ব্যক্তি আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে চান তাদের জন্য এই ব্রাহ্মমুহূর্ত সময়টি হচ্ছে অত্যন্ত শুভ।

তাই যদি মাঝেমধ্যে আপনাদের নিদ্রা রাত 3 টা থেকে ভোর 5টার মধ্যে ভঙ্গ হয়ে যায় তাহলে ঈশ্বর আপনাকে সুযোগ প্রদান করছেন ঈশ্বরের জপ করে ,প্রার্থনা করে আপনার সমস্ত দুঃখ কষ্ট থেকে নিবৃত্তি লাভ করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button