আপনার মধ্যে এই ৩টি লক্ষন থাকলে বুঝবেন প্রচুর ভাগ্যবান আপনি, ভগবান শিবের আশীর্বাদ আপনার ওপর আছে!!

নিজস্ব প্রতিবেদন :-আমাদের আশেপাশে আমরা এমন বেশ কিছু মানুষ দেখে থাকি যাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈশ্বরে অবিশ্বাসী আবার কেউ কেউ বিশ্বাস। কারো কারো বিশ্বাস নেই ঈশ্বরের প্রতি বিন্দুমাত্র। ঈশ্বরের কথা বললে প্রথমে দেবাদিদেব মহাদেবের কথা মনে পড়ে। প্রচন্ড ধৈর্য শক্তি সম্পন্ন , শান্ত গুণবিশিষ্ট মহাদেব কে অনেকে “ভোলানাথ” বলে থাকে। কথায় আছে তিনি ভক্তদের অল্প ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন, কৃপা করে তাদের উপরে ।

এই মহাবিশ্বে কোথায় বিরাজমান নেই মহাদেব ? । সর্বোচ্চ বিরাজ করেন তিনি । কথায় আছে মহাদেব কে স্মরণ করার জন্য মিষ্টান্ন দরকার হয় না বিন্দুমাত্র জল দিলে মহাদেব সন্তুষ্ট হয়ে কৃপা করেন । মহাত্মা বিধু বেশ কিছু নীতি কথা বলে গেছেন । সেই নীতি বা লক্ষণগুলো আপনার মধ্যে থাকলে বা কারোর মধ্যে থাকলে তার জীবন ধন্য । মনে করা হয় তার ওপর স্বয়ং মহাদেবের আশীর্বাদে রয়েছে । কি সেই নীতিকথা ? কে বা এই মহাত্মা বিধু ? আসুন জেনে নেওয়া যাক ।

মহাত্মা বিধু হলেন মহাভারতের প্রধান চরিত্র গুলির মধ্যে অন্যতম চরিত্র । তার সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধির জন্য তাঁকে, পিতামহ ভীষ্ম হস্তিনাপুরের প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন । তার মধ্যে বিরাজ ছিল স্বয়ং মহাদেবের আশীর্বাদ তাই তিনি খুব সহজেই কোন ব্যক্তির ভূত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারতেন । কি হতে চলেছে তার সাথে তা সহজে তিনি অনুধাবন করতে পারতেন।
এই মহাত্মা বিধুর নীতিকথা তে বেশ কিছু লক্ষণ বা নীতির কথা বলে গেছেন যা দ্বারা সহজে বোঝা যায় কোন ব্যক্তির উপর মহাদেবের আশীর্বাদে রয়েছে কিনা। কি সেই নীতি ? তিনি বলেছিলেন….

১) মহাদেবের কৃপা প্রাপ্ত ব্যক্তি সাধারণ জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন, এরকম ব্যক্তি বেশি লোক দেখানো পছন্দ করেন না। এবং কখনো অন্যকে নিচু দেখানোর চেষ্টা করেন না। এরকম ব্যক্তি ভুল করেও কারোর সঙ্গে ক-টুবাক্য উচ্চারণ করে না। এবং কখনো বুঝে শুনে কারোর অপমান করে না। মহাদেবের বিশেষ কৃপা লাভ কারী ব্যক্তি সর্বদা পশুপ্রেমী হয়। কখনো কোনো নিরীহ প-শুদের উপর অ-’ত্যা-চা-র করে না।

২) মহাত্মা বিদুর বলেন যে, যে ব্যাক্তি বিপুল ধনস’ম্পত্তি,জ্ঞান, ঐশ্বর্য লক্ষী ইত্যাদি পেয়েও অহংকার করে না সর্বদা অন্যের সাথে বিনম্রতার সঙ্গে কথা বলে এরকম ব্যক্তির ওপর সর্বদা মহাদেবের কৃপা বর্ষিত হয়। এই ব্যাক্তি সর্বদা অন্য ব্যক্তির সহায়তার করার জন্য তৎপর থাকে। কেবল অন্যকে খুশি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিশ্রম করতে থাকে।

৩) যে প্রকার বৃক্ষ ফল আসার পর ঝুকে যায়, জলভরা মেঘ আকাশের নিচে এসে যায় সেরকম মহাদেবের বিশেষ কৃপা লাভ করি ব্যক্তি সমৃদ্ধিতে কখনো গর্ববোধ করে না এবং সর্বদা পরোপকারের রত থাকে। মহাত্মা বিদুর আরো বলেছেন যে,যে ব্যাক্তি বলবান হওয়া সত্বেও ক্ষ-মাশীল ও দয়াবান হয় দুর্বলের উপর অ’-ত্যা-চার করে না এবং কখনো তার বল নিয়ে অহংকার করে না সে মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় হন।

৪) যে ব্যাক্তি নি-র্ধ-ন হওয়া সত্ত্বেও অন্যকে দান দিতে তৎপর হোন সর্বদা অন্যের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে, সেই ব্যক্তির উপর সর্বদা প্রভুর কৃপা বর্ষিত হয়। যে ব্যাক্তি দুর্লভ বস্তু কে পাওয়ার ইচ্ছা না রাখে, না পাওয়া বস্তুর জন্য কখনো শো-ক না করে যে বি’পত্তি আসলে ঘা-ব-ড়ে যায় না এবং সাহসের সাথে লড়াই করে তার ওপরে মহাদেবের বিশেষ কৃপা সর্বদা ব-র্ষিত হয়।
অতএব , উপ-রিক্ত লক্ষণগুলি কারুর মধ্যে বা আপনার মধ্যে থাকলে আপনার জীবন ধন্য জেনে রাখবেন । আপনার জীবনে মহাদেবের আশীর্বাদে বিরাজমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button