মিছিলটা করতে বাধ্য হয়েছি, মন বলছিল ইউপিতে ছুটে যাই,মন পড়ে আছে সেই গ্রামে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদন :-অবশেষে দীর্ঘ ছয় মাস পর রাজপথে নামার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কে উত্তর প্রদেশের নির্যাতিতা ওই দলিত মেয়ে ।উত্তরপ্রদেশে ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো উত্তাল দেশ তার সাথে সাথে রাজনৈতিক মহল গুলিও। ইতিমধ্যে পথে নেমে প্রতিবাদ করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমজনতারা। এই মিছিলে শামিল হয়েছেন দেশের তরুণ প্রজন্ম ছাত্র-ছাত্রী সকলে ।

দীর্ঘ ছয় মাস পর সমস্ত সতর্কবার্তা মেনেই ঐদিন সমাবেশে উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং প্রসঙ্গত উল্লেখ্য উত্তরপ্রদেশে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দিন বিড়লা তারামণ্ডল থেকে একটি পদযাত্রা আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে সেই প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হওয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

অবশেষে মঞ্চে এসে দাঁড়ান এবং প্রথমেই আবেগপ্রবণ হয়ে শুরু করে তার বক্তব্য। যদিও তার এই মিছিল কে ঘিরে বিরোধী দলের অনেক করেছে কটাক্ষ । তবুও তিনি প্রথমে মনে করিয়ে দিলেন এই করুনার কবলে মৃত স্বাস্থ্যকর্মী পুলিশকর্মী ডাক্তারদের কথা যারা প্রথম সারির যোদ্ধা ।

বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম থেকে পদযাত্রা শুরু করে মেয়োরেডের বিক্ষোভমঞ্চে এসে দাঁড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত এক বক্তৃতায় প্রথম দিকে বেশ আবেগমথিত লাগছিল তাঁকে। তিনি শুরুই করলেন এই বলে যে, ‘কোভিডে আমার অনেক পরিচিত মারা গিয়েছেন। তাঁদের জন্য আমার কষ্ট  হয়। আমরা সাবধানেই থাকছি। মিটিং-মিছিল করছি না। আজ করলাম, কারণ, আজ করতে বাধ্য হলাম। কেননা আমার মন পড়ে আছে উত্তর প্রদেশের ওই গ্রামে। মনে হচ্ছিল, এক্ষুনি ইউ পি-তে ছুটে যাই।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ওই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চান তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল ।সেই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ।কিন্তু তাদেরকে গ্রামের এক কিলোমিটার আগে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে বাধা দেয়া হয় ।শুধুমাত্র তাই নয় তাদের সঙ্গে যথেষ্ট দুর্ব্যবহার করা হয়। সাংবাদিকদের সাথে এই একই রকম ব্যবহার করে উত্তরপ্রদেশ সরকার ।এই সমস্ত কথা তিনি ঐদিন তুলে ধরেন এই মঞ্চে থেকে ।

এর পাশাপাশি তিনি আরো বলেন ” সোশ্যাল ক্রাইম হয়। কিন্তু ঘটনা ঘটনার পর প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে হয়। অথচ,এখানে? এখানে রাতের অন্ধকারে নির্যাতিতার দেহ দাহ করে ফেলা হল। বাড়ির লোককে ঘেঁষতে দেওয়া হল না। আজ যদি ইউপি-তে এই হয়, তাহলে কাল সারা দেশে কী হবে! সংখ্যালঘু, নমশুদ্র, দলিত, আদিবাসী– সকলেই ভয়ে ভয়ে। কেউ কোনও কথাই বলতে পারছে না। সকলের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে।

আমাকে মুসলিম তোষক হিসেবে দেগে দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু যে যখন বি’প’দে পড়ে আমি তখন তার পাশে দাঁড়াই। আমি কখনও মুসলিম, কখনও আদিবাসী। তবে আজ আমি দলিত । কৃষকের মুখের গ্রা’স কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আলু-ডাল-চাল-তেল কোনও কিছুই আর ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস’ নয়। বিজেপি দেশকে বেচে দিচ্ছে। দেশে দুর্ভিক্ষ আসছে।
\

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button