রান্না দারুন সুস্বাদু করতে মেনে চলুন ঠাকুমার দেওয়া কয়েকটি দুর্দান্ত টিপস, হাতেনাতে পাবেন ফল

বর্তমানে ভোজন রসিক মানুষের যথেষ্ট আধিক্য রয়েছে আমাদের সমাজে। সেই সাথে নিত্য নতুন রান্নার ঘন-ঘটা দেখা যায় গৃহস্থালির হেঁসেলে। রান্নায় স্বাদ গন্ধ একটি অন্যতম অপরিহার্য অঙ্গ। অনেকের মুখেই শোনা যায় এই রান্নাটা আমার ঠাকুমা আরো ভালো করতেন। অর্থাৎ রান্নায় ট্র্যাডিশনাল ভাব যদি বজায় থাকে তাহলে সেই রান্না হয়ে ওঠে আরো আকর্ষণীয়।ঠাকুরমারা মেনে চলতেন রান্নায় অনেক বেশি পদ্ধতি।

তাঁরাও রান্নায় নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে পারতেন। ঠাকুমারা দুধে আগের রাখা ছানার জল দিয়ে ছানা কাটতে পারতেন। ছানা হওয়ার পর তা হাত দিয়ে না টিপে একটা সাদা পরিস্কার কাপড়ের মধ্যে ওই ছানাটিকে রেখে দিতেন যার ফলে যা জল থাকতো ছানা থেকে তা ঝরে যেত। এর ফলে ছানা হত খুবই সুস্বাদু এবং নরমও বটে।আগেকার দিনে ঠাকুমারা পাঁঠার মাংস রান্না করতেন কড়াইতে ক্রমাগত নাড়তে নাড়তে।

যার ফলে মাংস থেকে কোলাজেন ভে-ঙে গিয়ে মাংসের ঝোলে মিশে যেতে। যার ফলে সেই মাংসের স্বাদ ছিল অতুলনীয়।ঠাকুমারা রুটি করার সময় আটা ময়দা মাখার জন্য গরম জলের সঙ্গে নিতেন অল্প দুধ, তারপর সেটা টাকা দিয়ে রেখে দিতেন প্রায় কুড়ি মিনিট পর্যন্ত। যার ফলে রুটি হত যথেষ্ট নরম। গ্রেভি পাতলা হলে একটি আলু সেদ্ধ করতেন ঠাকুমারা। তারপর সেই সিদ্ধ করা আলু চটকে গ্রেভিতে মিশিয়ে দিলে গ্রেভি হয়ে যেত ঘন।

আগেকার দিনে ঠাকুমারা এক দারুন উপায় দুধ সংরক্ষণ করতেন। সবুজ এলাচ দিয়ে তাঁরা একদিন দুধ রেখে দিতেন। যার ফলে দুধ কেটে যেত না এবং দুধের স্বাদ বেড়ে যেত। সুজির হালুয়া বানানোর জন্য ঠাকুমারা আগে থেকে সুজি ঘি দিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিতেন, সেই সাথে চিনির সিরাপ বানাতেন। যার ফলে সুজির হালুয়া হত আরো সুস্বাদু।ঠাকুমারা যখন ধোঁকার ডালনা তৈরি করতেন তখন ডাল বাটার সময়ে কিছু বড়ি দিতেন। এর ফলে ধোঁকা কড়মড়ে হত।

আগেকার দিনে ঠাকুমারা সমস্ত কিছু মশলা পাতি মাখতেন হাতে। এর ফলে রান্নার স্বাদ বৃদ্ধি পেত।ঠাকুমারা ব্যবহার করতেন শুদ্ধ জিনিস। সমস্ত কিছু তাঁরা শিলে বেটে রান্না করতেন। যার ফলে রান্নার স্বাদ অনন্য রূপ নিত। ঠাকুমাদের এই রান্না পদ্ধতি যদি এখন প্রয়োগ করা যায় তাহলে রান্নার স্বাদ আরও উৎকৃষ্ট ভাবে পাবেন মানুষজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button