প্রফেসর থেকে সাংবাদিক,নেতা থেকে রাষ্ট্রপতি, হাজারো গুণের অধিকারী প্রণব মুখোপাধ্যায়!

প্রণব মুখোপাধ্যায়। ভারতের এই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বর্তমানে মৃ-ত্যুর সাথে ল-ড়াই করছেন। তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অ-বন-তির দিকে যাচ্ছে। তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন কোটি কোটি দেশবাসী।ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে প্রণব মুখোপাধ্যায় এর পরিচয় হয়েছিল চাণক্য রূপে। তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং একটি বৃহত্তর সরকার পরিচালনার সুদক্ষ পাণ্ডিত্য তাকে রাজনীতি দরবারে এক বিশেষ আসনে আসীন করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হাত ধরে তিনি ভারতীয় রাজনীতিতে যোগদান করেন।

ইন্দিরা গান্ধীর তৎকালীন সময়ে অর্থমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন আবার কখনো বিদেশ মন্ত্রকের পদ অলংকৃত করেছেন। নিজের গুণাবলীর জোরে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ আসন রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছিলেন।1969 সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে রাজ্যসভায় নিয়ে এসেছিলেন। তারপরে তিনি 1973 সালে মন্ত্রিত্ব লাভ করেন । ইন্দিরা গান্ধীর ঢাকা জরুরি অবস্থার সময় তিনি ইন্দিরা গান্ধীর একজন বিশ্বস্ত এবং চূড়ান্ত সমর্থক হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

1983 থেকে 1984 সাল পর্যন্ত তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর হ-ত্যা-র পর কংগ্রেস দল ক্ষমতায় এসেছিলেন রাজীব গান্ধী কিন্তু রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মতবিরোধ হলে তিনি দলের মূল কেন্দ্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এবং রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। কিন্তু এই দল সাফল্যের মুখ দেখেনি। এরপর 1989 সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বো-ঝাপ-ড়ার পর প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর দলকে মিশিয়ে দেন কংগ্রেসের সাথে।

এরপর 1991 সালে রাজীব গান্ধীর হত্যার পর কংগ্রেসের এক শক্তিশালী নেতা রূপে প্রণব মুখোপাধ্যায় আ-ত্মপ্র-কাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও প্রণব বাবুকে তৎকালীন প্ল্যানিং কমিশনের প্রধান নির্বাচিত করেন এবং প্রণব বাবু বিদেশমন্ত্রকের দায়িত্ব পান। এই পর্যায়ে কংগ্রেসের হাল ধরেন সোনিয়া গান্ধী এবং প্রণব মুখোপাধ্যায় হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম প্রধান নেতা। প্রণব বাবু প্রথম জঙ্গিপুর লোকসভা থেকে ভোটে জয়যুক্ত হয়ে লোকসভা তে প্রবেশ করেন। প্রণব বাবু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন 2004 থেকে 2006 সাল পর্যন্ত।

পররাষ্ট্র দপ্তর সামলেছিলেন 2006 থেকে 2009 সাল পর্যন্ত। এবং অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন 2009 থেকে 2012 পর্যন্ত। লোকসভার প্রধান নেতার ভূমিকায় তিনি অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি পি এ সাংমাকে পরাজিত করে 13 তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন 2012 সালে। এই বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভারতরত্ন সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন 2019 সালে। এই মানুষটির জন্ম হয় 1935 সালে বীরভূম জেলার মিরাটি গ্রামে। তার পিতা কামদাকিঙ্কর মুখোপাধ্যায় ছিলেন কংগ্রেসের একজন বড় মাপের নেতা এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সহযোগী।

তার মায়ের নাম রাজলক্ষী মুখার্জি। তার স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জী কয়েক বছর আগেই পর-লো-ক-গ-ম-ন করেছেন। বর্তমানে তার দুই পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছেন।এই বিখ্যাত নেতা পড়াশোনা করেছিলেন কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলে। বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে তিনি গ্র্যাজুয়েট হন। পলিটিক্যাল সায়েন্স এবং ইতিহাসে তিনি এম‌এ করেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এল‌এলবি ও সম্পন্ন করেছিলেন। 1963 সালে তিনি বিদ্যাসাগর কলেজে অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর রূপে যোগদান করেছিলেন। রাজনীতির মধ্যে যোগদান করার আগে তিনি ‘দেশের ডাক’ নামক এক পত্রিকার সাথেও সাংবাদিক হিসাবে যুক্ত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button