পুরোপুরি কি উঠে যেতে পারে রেশন ব্যবস্থা? কেন্দ্রের নয়া আইনে মাথায় হাত পড়তে পারে সাধারণ মানুষের!

নিজস্ব প্রতিবেদন :-সেই আলাউদ্দিন খিলজির সময়কাল থেকে চলে আসছে রেশন ব্যবস্থা ।আমরা জানি যে আলাউদ্দিন খিলজী তা শাসনকাল সময় এ বাজারদর নিয়ন্ত্রণের জন্য রেশন ব্যবস্থা চালু করেন । এর ফলে রেশন ব্যবস্থা বর্তমান যুগে এখনো পর্যন্ত বিরাজমান। এই ব্যবস্থার ফলে যুগের পর যুগ ধরে উপকৃত হয়েছেন নিচু শ্রেণীতে থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা । কিন্তু এবার সে রেশন ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এক বিরাট পরিবর্তন। রেশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে । এমনটাই মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।

সরকার ন্যূনতম নির্দিষ্ট একটি দামে কৃষকের কাছ থেকে খাদ্যশস্য কিনে রেশনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেয় । কিন্তু এবারে কৃষক আইনের আওতায় কোন কৃষক চাইলে তার উৎপাদিত পণ্য ভিন রাজ্যে বিক্রি করতে পারবে। অর্থাৎ কোন কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য কাকে দেবে সেটা নির্ধারণ করবে সে নিজে। এর ফলে খাদ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় এক বিরাট আমূল পরিবর্তন আসতে পারে বলে মত একাংশের ।ভেঙে পড়তে পারে রেশন ব্যবস্থা।

বহুদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকার ডিবিটি প্রথা চালু করা কথা বলে ।অর্থাৎ রেশন গ্রাহকদের খাদ্যশস্যের বদলে, একাউন্টে ভর্তুকি দেওয়ার কথা । বিভিন্ন কেন্দ্র শাসিত রাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হলেও বাংলায় এই ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি । যার ফলে প্রতিনিয়ত চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র । বাজার মহলের বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতামত এই প্রক্রিয়া চালু হলে আসতে পারে চরম সংকট ।

বাংলার রেশন ডিলার সংগঠনের দাবি, কৃষক যদি সরাসরি সরকারের ঘরে তাঁদের উৎপাদিত শস্য না বিক্রি করেন, তাহলে রেশনে খাদ্যশস্য পাবে কোথা থেকে সরকার? এমনিতেই রেশনের খাদ্যশস্যে বিপুল ভর্তুকি দিতে হয় সরকারকে৷ কিন্তু, কৃষক যদি মান্ডি থেকে মুখ ফিরিয়ে দেয়, তাহলে রেশন ব্যবস্থা তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে৷ শীঘ্রই এই নিয়ে পথে নেমে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরির জন্য বৈঠকে বসছে অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন৷

সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি ফসলে বর্ধিত এমএসপি ঘোষণা করেছে৷ পাশাপাশি নতুন আইনে বেসরকারি সংস্থাগুলি যাতে চাষিদের থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য কিনতে পারে, তারও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে৷  সরকারের হাতে কৃষকের ফসল সরাসরি না আসায় তৈরি হতে পারে আশঙ্কা ,কেননা কৃষকরা তাদের ফসল যেখানে বেশি দাম পাবে সেখানে বিক্রি করবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমএসপি থেকে খোলা বাজারে মেলে কম দাম।

এ বছর খোলাবাজার এবং এমএসপি নির্ধারিত দাম প্রায় সমান কাজে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল মজুত করে রাখা শুরু করে দেয় করে । এবং বেশি দাম পেয়ে তুলে দেবে বেসরকারি সংস্থা হাতে , সরকারের দায়িত্ব কমবে কার্যত ,কমবে রেশন বন্টনের দায়িত্ব । কিন্তু এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক সম্প্রদায় একটা বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button