“কেষ্ট আগে বাজারে মাগুর মাছ কাটতো, হটাৎ এই কয়েক বছরে হাজার কোটির মালিক হলো কিভাবে?”- নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদন :-বেশ কিছুদিন আগে ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা যা মুহূর্তের মধ্যে দখল করে খবরের শিরোনামে শীর্ষ । নিজেরই দলের সাথে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন এবার বর্ধমান জেলায় বিদায় কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট মণ্ডল । অনুব্রত মণ্ডল এর আগে বিভিন্ন কারণ তার বক্তব্যের জন্য খবরের শিরোনামে এসেছেন । জড়িয়েছেন বহু বিতর্কে। অনুব্রত মণ্ডল কে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিলেন বিদায় কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় তিনি বলেন, ” টাকা না পেলে গুলি করে মারব” । কিন্তু কিসের টাকা? কার টাকা? এরকম আরো অনেক প্রশ্ন আছে নিশ্চয়ই? তাহলে বলি শুনুন …

স্ত্রীর ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন আগে নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় বলাবাহুল্য বর্ধমান গুসকরার বিদায়ী কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে কুড়ি লক্ষ টাকা ধার করেন বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল । তিন চার দিনের মধ্যেই সে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা এখনও মেটেনি দাবি নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের । তাই তিনি তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন একথা তিনি নিজের মুখে স্বীকার করেছেন অবশ্য ।

আউসগ্রাম থাকা এক তৃণমূল কর্মী অনুব্রত মণ্ডলের প্রাণ সংশয় এর অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার স্কুল পাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় নিত্যানন্দ বাবুকে। তিনি নিজের মুখে স্বীকার করেন যে আমার প্রাপ্য টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়নি তাই আমি তাকে গুলি করে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছি।

সেই নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় কে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে তাকে তিন দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় বিচারক। এর পাশাপাশি সেদিন তিনি আরও বেশকিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন । তিনি জানান যে বেশ কিছুদিন আগে তার স্ত্রীর ক্যান্সারের জন্য কুড়ি লক্ষ টাকা ধার নেয় অনুব্রত মণ্ডল কিন্তু সে টাকা ফেরত পাইনি । আমার কাছে টাকা দেওয়া সব প্রমাণ আছে । ” বাজারে বসে মাগুর মাছ কাটা কেষ্ট মণ্ডল কিভাবে হল রাতারাতি কোটিপতি? এদিন তিনি প্রশ্ন করলেন সাধারণ মানুষকে ।

তার মেয়ে একই সাথে কিভাবে দুটো সরকারি চাকরি পায় এ বিষয়ে তিনি সরব ছিলেন সেদিন ।কেষ্ট মন্ডলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ খুনের অভিযোগ এর কথা বললেন সেদিন প্রাক্তন কাউন্সিলর। তিনি এও বলেন” যদি টাকা আমি না পাই জেল থেকে বেরিয়ে কলার ধরে ওর কাছ থেকে টাকা আদায় করব দরকার সুব্রত বক্সী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কাছেও দ্বারস্থ হব উনি নিজেকে CM থেকেও বেশি বড় ভাবছেন এটা একটা লজ্জাজনক ঘটনা তার কাছে।”

এ ব্যাপারে অনুব্রত মন্ডলের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সম্পূর্ণ ঘটনাটি অস্বীকার করেন। এবং বলেন যে নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় একজন মানসিক অবসাদগ্রস্ত লোক তার কাছে অজস্র বিনা লাইসেন্সে আগ্নেয়াস্ত্র কারবার আছে । এমনটাই জানিয়েছেন বীরভূম জেলা সভাপতি। এখন দেখার বিষয় হলো জেল থেকে বেরিয়ে নিত্যানন্দ বাবু কিভাবে টাকা আদায় করেন। কেষ্ট মন্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলি এখনো পর্যন্ত সত্যতা বিচার হয়নি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button