সম্পূর্ণ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান কমপক্ষে দুই লক্ষের বেশি মানুষ, প্রথম স্থানে মোদির শহর গুজরাট!

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির সিংহাসনে বসার আগে, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের সবচাইতে বেশী চর্চা হয়েছিল ‘গুজরাট মডেল’ নিয়ে। সেই গুজরাট মডেল আদতে কতখানি কার্যকর,সেটার প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল লোকসভায় বিরোধীদের করা একটি প্রশ্নে।

বিজেপির প্রচারের মূলস্রোতে সবসময়ই ছিল মুখ্যমন্ত্রী মোদীর শাসনকালের গুজরাটের উন্নয়নের কাহিনী। তবে জানা গিয়েছে, এই উন্নয়নের সূচক গুজরাটেই সবচাইতে বেশী সংখ্যক মানুষ রয়েছে শহরে, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। মূলত তাদের রাত কাটে ফুটপাথে, কখনও বা খোলা আকাশের নিচে, কারোর বা রেল ষ্টেশনে।

দেশের কতজন মানুষ খোলা আকাশের নীচে দিন যাপন করে?কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী লোকসভায় এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জানান, আমাদের দেশে শহর গুলোতে দু’‌লক্ষেরও বেশি মানুষ রয়েছেন যাদের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ঘর নেই। এ বিষয়ে সবথেকে বেশী লোক রয়েছে বিজেপি শাসিত গুজরাত ও কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানে। এই দুই রাজ্যেই রয়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ গৃহহীন,যা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশী। এই তালিকায় পরবর্তীতে রয়েছে,আরও দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা।

সম্প্রতি এক বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে একটি সমীক্ষা করা হয়। সেই সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক খবর প্রকাশ পেয়েছে। তবে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই বিষয়ে কোনো রকম দায় নিতে নারাজ। গৃহহীনদের ব্যাপারে পুরো দায় রাজ্য‌ সরকারের, কেন্দ্র সরকারের নয়। যদিও বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঢালাও প্রচার করা হয়েছিল।

সেই ২০২৪ নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গ হিসেবে কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে ২০২২ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দেশের বিভিন্ন শহরে ১.‌১২ কোটি বাড়ি তৈরী করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৫ লক্ষ বাড়ির কাজ সম্পন্ন, এবং বাকি ৬৫ লক্ষ বাড়িও ২০২২ এর মধ্যে তৈরী হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর লোকসভায় এই ব্যাপারে দেওয়া উত্তরের পর বিরোধীদের মন্তব্য, বাস্তবে কোন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না কেন্দ্র সরকারের দাবি অনুযায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button