একটানা 30 বছর খাল কেটে গ্রামে জল এনেছেন বৃদ্ধ, খুশি হয়ে কৃষককে ট্রাক্টর উপহার দিলেন আনন্দ মহিন্দ্রা

নিজস্ব প্রতিবেদন :-" খাল কেটে কুমির "আনার গল্প আমরা সকলেই শুনেছি ।চলতি কথায় ব্যবহার করা হয় " খাল কেটে কুমির "আনা অর্থাৎ নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা ।কিন্তু এবার আপনাদের সামনে যে ঘটনা তুলে ধরব তার নিতান্তই তার বিপরীত । "খাল কেটে জল আনা" । এখনকার দিনে উন্নত পরিষেবা যুক্ত দেশে খাল কেটে জল আনতে হয় ? মজা করছেন ? ইয়ার্কি হচ্ছে ? আগে না । সম্প্রতি এ রকম একটি ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় শিরোনামের শীর্ষে ।

ভারত একটি কৃষিভিত্তিক দেশ ।অর্থাৎ ভারত-নির্ভর করে অনেকটা কৃষি ক্ষেত্রের উপরে । কিন্তু কৃষিক্ষেত্রে সচল রাখতে বাকি সব অত্যাবশ্যকীয় জিনিস গুলোর মধ্যে প্রথম সারির জিনিস হচ্ছে জল জল । জল ছাড়া কৃষি কাজ সম্পন্ন হবে না। যদিও এখন উন্নত প্রযুক্তির কালে জলের ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাবে করা হয়েছে তবুও এমন অনেক গ্রাম আছে যেখানে এখনও পর্যন্ত পৌঁছায়নি এই ব্যবস্থার আলো। তাই গ্রামবাসীকে রীতিমতো বহুদূর থেকে জল আনতে দেখা যায় ।সম্প্রতি এমনই একটা ঘটনা ঘটেছে দেশের এক প্রান্তে । কি সেই ঘটনা ? আসুন দেখে নেওয়া যাক ।

বিহারের লাথুয়া এলাকার কটিওয়ালা গ্রামের এক বাসিন্দার নাম লুঙ্গি ভূইয়া। কে এই লুঙ্গি ? লুঙ্গি ভূঁইয়া ৩০ বছর ধরে গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে করে গেছে এক জনকল্যাণমুখী কাজ । গ্রামে সেরকম সেচ ব্যবস্থা নেই ।কৃষি ক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই ,তাই জলের ব্যবস্থা করতে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ৩ কিলোমিটার খাল কেটে জলের ব্যবস্থা করেছে এই লুঙ্গি ভূঁইয়া এমনটাই জানা যায় গ্রামবাসী । প্রশাসনকে বলেও কোন হেলদোল হয়নি অভিযোগ গ্রামবাসী ।

গোয়া থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে মাওবাদী অধ্যুষিত ,বনজঙ্গলে ঘেরা এই গ্রামটি । পাহাড়ের ঝর্নার জল আছে কিন্তু সেই ঝর্ণার জল মিশে যাচ্ছে নদীতে । গ্রামে নেই বিন্দুমাত্র জলের ব্যবস্থা । তাই এই গ্রামবাসী লুঙ্গি ভূঁইয়া একা নিজের প্রচেষ্টায় ৩০ বছর ধরে ৩ কিলোমিটার খাল কেটে গ্রামে জল আনার ব্যবস্থা করেন এবং সফল হয়। তার এই কাজে অভিভূত হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে মাহিন্দ্রা কোম্পানির চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা ।

সংবাদসূত্র মারফত খবর,ওই ব্যক্তির বহুদিনের এমন পরিশ্রম দেখে খুশি হয়েছেন মাহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা। এরপরেই ঠিক করেন যে তিনি লঙ্গির পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সাহায্য করবেন। মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর্সের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তিকে আনন্দ মাহিন্দ্রা একটি ট্রাক্টর উপহার হিসেবে দেন। তার এই জনকল্যাণমূলক কাজে রীতিমতো পুলিশ জানিয়েছে বহু মানুষ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button