কৃষি বিলের পর এবার অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকায় কাটছাঁট কেন্দ্রের! তালিকা থেকে বাদ আলু, পেঁয়াজ, ডাল সহ দানাশস্য!

নিজস্ব প্রতিবেদন :-বেশ কিছুদিন আগে কৃষি বিল নিয়ে একটি বিল পাশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। পুরনো কৃষি বিল একটি নির্দিষ্ট ট্যাক্স এবং ন্যায্য মূল্যের কথা বলার ছিল । কিন্তু সেই কৃষি বিল কে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে নতুন রূপে আনে কেন্দ্রীয় সরকার ।তাতে আপত্তি জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি ।রীতিমতো আন্দোলনের পথে নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি।

এবার কৃষি বিলের পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যর তালিকায় থাকবে না আলু পিয়াজ ।তালিকার বাইরে থাকবে এই আলু পিয়াজ এমনটাই জানাচ্ছে সূত্রের মারফত। ঐদিন রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিল পাস করে যেখানে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য তালিকা থেকে বাদ পড়ে আলু পিয়াজ এর মতন ফসল ।

এই তথ্য সামনে আশাতে শুরু হয়েছে চা-ঞ্চ-ল্য। রীতিমতো ক্ষো-ভ ফাটছে সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক দলের একাংশের মতামত কৃষকের জীবন নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে খুন করে গায়ের জো-রে এরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ ব্যাপারে শাসকদল কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে এবং আরো অনেক ইস্যু নিয়ে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে থেকে মঙ্গলবার বৃহত্তর আন্দোলনে নামার কথা জানান।

শুধুমাত্র আলু ,পিয়াজ নয় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভোজ্য তেল ও । উৎপাদন বেশী হওয়ায় মজুতদারী রুখতে এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার এমনটাই দাবি গেরুয়া শিবিরের ।

এ ব্যাপারে সরব হয়েছেন অনেকে। অনেকে মনে করছেন কৃষি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে বিকিয়ে দেয়ার এক পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারে ।বামপন্থী নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন “অত্যাবশ্যকীয় পণ্য থেকে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল বাদ দিয়ে দেওয়ার ফলে সরকার পরোক্ষভাবে এটা বোঝাতে চাইছে যে সে সবের উৎপাদন এবং সেই সবের দামে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।”

অত্যাবশ্যকীয় পণ্য তালিকা থেকে এইসব বাদ দিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কিছু মানুষের জীবন বিপন্ন করবে এমনটাই মনে করছেন সুজন চক্রবর্তী ।তিনি আরো জানান মোদি সরকার পরিকল্পিতভাবে কৃষিব্যবস্থা ,কৃষকের জীবনকে তুলে দিতে চেয়েছেন আম্বানি আদানি হাতে । তার মতে অনেক বিজেপি সমর্থক এর বিরোধিতা করছেন ।রাজ্যসভায় তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, ফলস্বরূপ একপ্রকার গণতন্ত্রকে খুন করে গায়ের জো-রে এর নিয়ম আনছে মোদী সরকার ।

তবে এ ব্যাপারে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছে “এতদিন পর্যন্ত কৃষকদের হাতে কোন নিয়ন্ত্রন ছিল না এই দাম নির্ধারণে। এবার এই বিলের মাধ্যমে কৃষকরা নিজের ইচ্ছামত ন্যায্য দাম রাখতে পারবেন । তিনি এও জানান ” যারা বিরোধিতা করছে মূলত শাসক দল, তাদের একটা বড় অংশ কাটমানি থাকে এই ফসল থেকে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা এই বিরোধিতা করছে “।

তবে আদতে এই বিল কৃষকদের অভিশাপ না আশীর্বাদ সেটা সময় বলবে ।তবে অনেকের মতে এই বিল আনতে এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য তালিকা থেকে আলু পিয়াজ , ও অন্যান্য জিনিস বাদ দেওয়াতে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হবে সাধারণ জীবনকে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

Back to top button